গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে আমাদের দেশের টেলিকম জায়ান্ট, নরওয়েজিয়ান কোম্পানি গ্রামীনফোনের সর্বমোট লভ্যাংশ দাঁড়ায় তিন হাজার পাঁচশত বিশ কোটি বাংলাদেশি টাকা। এটা গ্রামীনফোনের সূচনা থেকে কোন বছরে তাদের সর্বোচ্চ লাভ।

মূলত ভয়েস কল ও ডেটা থেকে প্রাপ্ত আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়াতেই তাদের লাভ বেড়েছে। এমনকি এই টাকার অঙ্কটি তাদের ২০১৭ সালের প্রাপ্ত লভ্যাংশ থেকেও ২৮.৪৭ ভাগ বেশি। আর এরই ফলে গ্রামীনফোন তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ২০১৮ সালের জন্য শেয়ারপ্রতি ২৮ টাকা করে লভ্যাংশ দিতে পারবে।




কোম্পানির মতে গত বছর তাদের আয় আগেরবারের চেয়ে ৩.৪ ভাগ বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৩,২৮০ কোটি টাকা। ডেটা থেকে প্রাপ্ত আয় বেড়েছে প্রায় ২১ ভাগ এবং ভয়েস কল থেকে মোট আয় বেড়েছে ৬.৬ ভাগ। এটা থেকে আরেকটি বিষয় ও স্পষ্ট যে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষ ভয়েস কল এর চেয়ে ডেটা ব্যবহারের দিকেই বেশি ঝুঁকছে।

২০১৮ তে গ্রামীনফোন প্রায় ৭৪ লাখ নতুন গ্রাহক পায় এবং বছর শেষে তাদের মোট সচল গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় সাত কোটি সাতাশ লক্ষে। এদের মাঝে প্রায় ৫১ ভাগ গ্রাহক নিয়মিত ইন্টারনেট ও ব্যবহার করেন। একই বছরে তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী গ্রাহকও বেড়েছে ৫৯ লক্ষ।
গ্রামীনফোন সিইও মাইকেল প্যাট্রিক ফোলি এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে ফোরজি প্রযুক্তি লঞ্চ করা মাধ্যমে গ্রামীনফোন মার্কেটে খুব শক্তিশালী ব্যবসায়িক সামর্থ্য দেখিয়েছে এবং একইসাথে আমরা ভয়েস কল ও ডেটার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছি। এভাবেই আমরা দ্রুততার সাথে আমাদের গ্রাহক, কর্মী ও শেয়ারহোল্ডারদের  কৌশলগত সেবা ও মূল্য দিয়ে যাবো।”
অবশ্য গত বছরে গ্রামীনফোন তাদের নেটওয়ার্ককে ফোরজিতে উন্নত করতে এবং লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দের জন্য প্রায় ৩৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। তাছাড়া সরকারী তহবিলেও তাদেরকে দিতে হয়েছে ৮৪২০ কোটি টাকা।